স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডলারের নিম্নমুখী বিনিময় হার মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ২ হাজার ৭০৪ ডলার ৮৫ সেন্টে। তবে এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭৪৭ ডলার ১০ সেন্টে নেমেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের বাজারের বিনিয়োগকারীরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তন ও তার উদ্বোধনী ভাষণের জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা ধারণা করছেন, এ ভাষণে তিনি সামনের দিনগুলোয় আর্থিক নীতি ও সুদহার কমানোর বিষয়ে ইঙ্গিত দিতে পারেন।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন কোনা পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা বৈশ্বিক বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। তার কিছু নীতির কারণে মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘ সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। তাই এ সময় নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয় খাত হিসেবে বাড়তে পারে স্বর্ণের চাহিদা।’
ট্রাম্প এরই মধ্যে বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ পর্যন্ত ও চীনা পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছেন। পাশাপাশি কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস জানায়, আগামী ১২ মাসের মধ্যে স্বর্ণের ওপর ১০ শতাংশ কার্যকর শুল্ক আরোপের ১০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ব্যাংকটি বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলারে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছিল। গোল্ডম্যান স্যাকসের দুই বিশ্লেষক লিনা থমাস ও দান স্ট্রুয়ভেন এক প্রতিবেদনে জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম হতে পারে ২ হাজার ৯১০ ডলার। এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে ডিসেম্বরের প্রত্যাশার তুলনায় কম ইটিএফ প্রবাহ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) প্রত্যাশার তুলনায় কম সুদহার হ্রাস করতে পারে। এছাড়া ২০২৫ সালে মুদ্রানীতি শিথিলায়নের গতি কমে যাওয়ায় ইটিএফে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা কমতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল।
গতকাল ডলারের সূচক দশমিক ২ শতাংশ কমে গেছে। সাধারণত ডলারের বিনিময় হার কমে গেলে আমদানিকারকদের কাছে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে।
স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ৩০ ডলার ২৯ সেন্টে। প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে আউন্সে ৯৩৬ ডলার ৩৫ সেন্টে স্থির হয়েছে। এদিন প্লাটিনামের দাম কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ। আউন্সপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৯৪২ ডলার ২৫ সেন্টে।